ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরোধী আন্দোলনে দিশাহারা অমিত শাহ গেলেন পুলিশ সদর দপ্তরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
বিরোধী আন্দোলনে দিশাহারা অমিত শাহ গেলেন পুলিশ সদর দপ্তরে
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের আন্দোলন এবং দিল্লির রামলীলা ময়দানে আসন্ন সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে তিন ঘণ্টার বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও উপস্থিত ছিলেন। শনিবার কনট প্লেসের কাছে জয় সিং মার্গে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে এ বৈঠক হয়।

২০২২ সালের আগস্টের পর এই প্রথম সেখানে গেলেন অমিত শাহ। আসন্ন সমাবেশে বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ভোট চুরির অভিযোগে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, ওই সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য রয়েছে।

এর আগে ৩০ অক্টোবর নয়াদিল্লির অশোকা হোটেলের লনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘গণ-অভিশংসন’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধীরা।

সমাবেশ ঠেকাতে বিজেপি চারটি যুক্তি সামনে আনছে। দলটির নেতারা বলছেন, উৎসবের মৌসুমে আন্দোলনে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ১ নভেম্বর শিখদের জন্য শোকের দিন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকায় আন্দোলন বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার প্রকাশ এবং এর মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

দিল্লির ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিটিআই) চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়ে সমাবেশ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন।

তাঁর দাবি, সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় তিন হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। ১ নভেম্বরের সমাবেশ হলে ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

বিজেপির মুখপাত্র রবিশংকর প্রসাদও আন্দোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, উৎসবের সময়ে এ ধরনের কর্মসূচি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবিকায় আঘাত হানবে। পাশাপাশি ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ১ নভেম্বর সমাবেশ আয়োজনের সমালোচনা করেছেন তিনি।

তবে বিরোধীরা কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য, ১ নভেম্বরের সমাবেশ এক দিনের কর্মসূচি, এটি লাগাতার আন্দোলনের সূচনা নয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইন্ডিয়া জোটের শরিক নেতাদের সমাবেশে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিশংসন প্রক্রিয়াও আলোচনায় রয়েছে। তাঁকে অপসারণের দাবিতে দেওয়া প্রথম নোটিশ লোকসভা ও রাজ্যসভার অধ্যক্ষরা খারিজ করে দেন। দ্বিতীয় নোটিশটি এখনো রাজ্যসভার অধ্যক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। শীতকালীন অধিবেশন শুরু হলে তৃতীয়বার নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিরোধীরা।

বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এ কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বিরোধী জোট। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যর্থতার পর রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোট বিভ্রান্তিকর প্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে।


কমেন্ট বক্স